Deprecated: __autoload() is deprecated, use spl_autoload_register() instead in /customers/8/3/c/europerkatha.com/httpd.www/wp-includes/compat.php on line 502 পোল্যান্ডে স্থায়ী ভাবে থাকার সুযোগ -বাস্তব না গল্প -দেখে এলাম সরজমিনে – Europerkatha.com

পোল্যান্ডে স্থায়ী ভাবে থাকার সুযোগ -বাস্তব না গল্প -দেখে এলাম সরজমিনে

Posted on by

লন্ডন থেকে শেখ মহিতুর রহমান বাবলু : একে একে জীবিকার তাগিদে ইউরোপে আসার সব পথ বন্ধ প্রায়। অথচ তৃতীয় বিশ্বের বেকার বিশাল জনগোষ্টি ইউরোপ আমেরিকার দিকে তাকিয়ে আছে তৃষ্নায় কাতর চাতক পাখীর মতো। অবৈধভাবে ইউরোপের পথে পাড়ি জমাতে গিয়ে ভুমধ্য সাগরে প্রায়ই নৌকা ডুবিতে সলীল সমাধী হচ্ছে অজানা অচেনা হতভাগা অগণিত অভিবাসীর। গণমাধমে এসব খবর দেখেও জাগ্রত হচ্ছে না বিশ্ব মানবতার। অবশ্য সম্প্রতি অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে একটা সমঝোতায় পৌচেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। বাস্তবে সেটা কতটুকু ফলপ্রসু হয় ,তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।

কিছুদিন আগে জানতে পারলাম পোল্যান্ডে সহজ শর্তে জব ভিসা ,স্টুডেন্ট ভিসা ও ভ্রমণ ভিসা দেয়া হচ্ছে। খবরটি শুনতেই ঝাঁপিয়ে পড়লাম দেশটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। পূর্বের পাওয়া তথ্যের সাথে বাস্তবতার মিলও খুঁজে পেলাম। কথা বললাম এদেশের পোলিশ বন্ধুদের সাথে। সিদ্ধান্ত নিলাম পোল্যান্ড ভ্রমণের।

মধ্যে ইউরোপের সার্বভৌম দেশ পোল্যান্ড। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ষষ্ট জনবহুল দেশ এটি। ১৬ সেঞ্চুরিতে পোল্যান্ড ইউরোপের একটি শক্তিশালী ,প্রভাবশালী ও সম্মৃদ্ধ দেশ ছিল। এ সময় পোল্যান্ড ,রাশিয়া ও সুইডেনের উপর আধিপত্য বিস্তার করে। কিন্তু ইউরোপীয় শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর পররাজ্য দখলের লিপ্সা ও পোল্যান্ডের আভ্যন্তরীন অগণতান্ত্রিক অস্থিতিশীলতা এবং ওই অঞ্চলের রাজনীতিবিদদের লোভ, সার্থপরতা ও দেশ প্রেমের অভাবে অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে সব ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি হারিয়ে ফেলে দেশটি। এমন কি তার রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব বিনষ্ট হয়। পোল্যান্ডকে পার্শ্ববর্তি দেশ রাশিয়া প্রশিয়া (জার্মান ) ও সুইডেন নিজেদের মধ্যে ভাগা ভাগি করে নেয়। বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে যায় পোল্যান্ড নামের দেশটি।
১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর পোল্যান্ড আবারো স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্মমর্যাদা লাভ করে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর দেশটি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অধীনে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ১৯৮৯ সালে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কমিউনিস্ট শাসনামলের অবসান হলে পোল্যান্ড আবারো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপ নেয়। ১৯৯৭ সালে এর নতুন সংবিধান রচিত হয়। সাবেক কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পোল্যান্ড অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল। ২০০০ সালের পর বিশ্ব জুড়ে যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয় তারও প্রভাব পড়েনি সম্ভাবনাময় এই দেশটির উপর।

পোল্যান্ডে শ্রমজীবীদের পারিশ্রমিক ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর চাইতে অনেক কম।সেজন্য ২০০০ সালের পর শিল্পে উন্নত ইতালি সহ ইউরোপের শিল্পে সমৃদ্ধ দেশ থেকে হাজার হাজার শিল্প কারখানা স্তান্তর করা হয় পোল্যান্ড সহ ইস্ট ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এদিকে পোল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হলে এ অঞ্চলের ২৭/২৮ টা দেশের দরজা উন্মুক্ত হয় পোলিশদের জন্য। এ সুযোগে দেশটির মধ্য বয়সি ও যুবসমাজ বেশি বেশি উপার্জনের আশায় অভিভাসন শুরু করে উন্নত ইউরোপের দেশে দেশে। ফলে তীব্র শ্রমিক সংকটে দেখা দেয় পোল্যান্ডে ।এ সমস্যা উত্তরণে দেশটি কাজাকিস্তান ,উসবিকিস্থান ,লিথুনিয়া সহ প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের জন্য তাদের শ্রম বাজারে প্রবেশের পথ শিথিল করে দেয়। কিন্তু তাতেও সংকট মোকাবেলা সম্পূর্ণভাবে সফল না হলে. পোল্যান্ড তাদের রাষ্ট্রীয় ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপন জারী করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয় সবার জন্য ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ও পার্মানেন্ট রেসিডেন্সের নানা আকর্ষণীয় সুযোগ সুবিধার কথা।

লন্ডন থেকে আমরা সরাসরি উড়ে গেলাম পোল্যান্ডের রাজধানী warsaw তে। আমার সফর সঙ্গী লন্ডনে আমার জামাই পরিচয়ে পরিচিত আদনান আহমেদ ও সুদর্শন বালক মোঃ মোকাদ্দুস টিপু। লন্ডন থেকে যাবার আগে একাধিক লফার্ম ,একাউন্টেন্ট ফার্ম ,বাংলাদেশ মিশন ও সেদেশের বাংলাদেশী ব্যাবসায়িক সংগঠনের সাথে যোগাযোগ করি। সবাই আমাদেরকে অভিনন্দন জানান। সাক্ষাতের জন্য এপয়েন্টমেন্ট দেন নির্ধিদায়। কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাস পোল্যান্ড এ ব্যাপারে ছিল নীরব দর্শক। বহুবার তাদের অফিসের টেলিফোন নাম্বারে রিং করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। কেউ কল রিসিভ করেনি। উপায় না দেখে দূতাবাসের ইমেইলে রাষ্ট্রদূত বরাবর চিঠি লিখি। এপ্লিকেশন করি। তাতেও ঘুম ভাঙেনি সাহেবদের। এপ্লিকেশন করার সময় আমাদের পত্রিকার অফিসিয়াল প্যাড ব্যবহার করি। যাতে আমার আইডেনটিটি নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে। সেখানে আমার পরিচয় মিটিং এর উদ্দেশ্য পোল্যান্ড এ আমার হোটেলের ঠিকানা,আমাদের সফর সূচি সব উল্লেখ ছিল।
ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশ মিশন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে ইন্টারভিউ নিয়ে লন্ডন ফিরবো। তার পর দেশ বিদেশের রেডিও, টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়াতে বিস্তারিত নিউজ করলে পোল্যান্ড সম্পর্কে আগ্রহীরা উপকৃত হবে । দালাল বা আদম বেপারী দ্বারা কেউ প্রতারিত হবে না ।এতে উপকৃত হবে দেশ।রেমিটেন্স যোদ্ধাদের তালিকায় যোগ হবে নতুন নতুন মুখ। কিছুটা হলেও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবে দেশ ও জাতি । আমার সে পরিকল্পনা প্রায় ভণ্ডুল করে দিয়েছিলো বাংলাদেশ দূতাবাস পোল্যান্ড।
বিমানবন্দর থেকে রাজধানী ওয়ারশ’র কেন্দ্রবিন্দুতে এসে হোটেলে প্রথমে গাট্টি বোসকা রাখার ইচ্ছা ছিল আমার। আদনান আপত্তি করলো। তার বক্তব্য যে কাজে এসেছি ওটা আগে করতে হবে। আদনানের কথা রক্ষা করতে হলো। জামাই বলে কথা। আমরা সোজা গিয়ে হাজির হলাম পূর্ব নির্ধারিত একটি ল’ফার্মে। এদের সাথে ইমেইল এ লন্ডন থেকেই যোগাযোগ হয়েছে। আমাদেরকে বসতে দেয়া হলো সুসজ্জিত একটা মিটিং রুমে। অফার করা হলো চা কফি ও কোমল পানীয়। টিপু বলে উঠলো কিছুই চাই না ,কোল্ড ওয়াটার প্লিজ।বাইরে প্রচন্ড গরম। আমরা ভীষণ তৃষ্নার্ত ছিলাম।

কিছুক্ষন পর কাগজ কলম হাতে অল্পবয়সী পোলিশ আইনজীবী আমাদের সাথে যোগ দিলেন।মেয়েটি অপূর্ব সুন্দরী না হলেও তার হাসিটা ছিল বেশ। আদনান একে একে প্রশ্ন করে চলেছে। আমি আলোচনার কী পয়েন্ট নোট করছি। ফাঁকে ফাঁকে আমিও প্রশ্ন করছি। এদিকে আমাদের সুদর্শন বালক টিপু মুঠো ফোনে চ্যাট নিয়ে ব্যাস্ত। মনে হলো এ পৃথিবীর জাগতিক সব সম্পর্ক উপেক্ষা করে ভিন্ন গ্রহে তার অবস্থান। অজানা কোথাও হারিয়ে গেছে সে।
মিটিং শেষ করে ট্যাক্সি নিয়ে আমরা সোজা হোটেলে। সন্ধ্যার আগে এলাকাটা হেটে দেখতে ও হালাল খাবারের সন্ধানে বেড়িয়েছি। প্রচন্ড শীত প্রধান দেশ হলেও পোল্যান্ডকে সবুজের দেশ বলা হয়। জনশুন্য রাস্তা দিয়ে হাটছি। ছবি তুলছি। উপভোগ করছি সবুজের চাদরে মোড়ানো ওয়ারশ’র উপকণ্ঠ। হটাৎ একটা ছোট্ট ক্যানেল তার উপর সুসজ্জিত একটি ব্রিজ চোখে পড়লো।ব্রিজের রেলিং এ লাগানো অসংখ্যা তালা। আমি বিজ্ঞের মতো হাসছি। আদনান ও টিপু তালা ও হাসার রহস্য জানতে চাইলো।
কথায় বলে ইউরোপ আমেরিকার তিন ডাবলুর কোনো ভরসা নেই। ওয়াইফ ,ওয়েদার ও ওয়ার্ক। যেকোনো মুহূর্তে এরা রং বদলায়। কথাটা একশত ভাগ সত্য। একবার এক বন্ধু তার প্রথম গিন্নির সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের গল্প বলেছিলো।সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তার টেবিলে তার গিন্নি বলছে
মিঃ এক্স তুমি এক ঘন্টার মধ্যে বাসা ছাড়বে ।
পুরুষটা জানতে চাইলো কোনো সমস্যা ?
মহিলা -কাল রাতে তুমি আমার সাথে ভালো ব্যবহার করনি ।সো প্লিজ লিভ মি নাউ। সি ইউ কোর্ট অর সলিসিটার্স অফিস।

বন্ধুটা বললো গত কাল গভীর রাতে আমার এক্স গিন্নি মাতাল হয়ে এক বন্ধুর হেল্প নিয়ে বাসায় ফেরে।আমি তাকে ২/৩ টা প্রশ্ন করেছিলাম মাত্র।
এতো রাত পর্যন্ত বাইরে থাকবে আমাকে বলোনি কেন ?
তোমার সাথের ঐ লোকটি কে ?
নাউ এ ডে হোয়াট ইউ আর ডুইং ,ইট ইজ নট ফেয়ার।
বাস রেগে মেগে ক্ষিপ্ত হলো সে। বললো আমার পারসোনাল ব্যাপারে ইন্টারফেয়ার করছো তুমি। ইট ইজ অলসো নট ফেয়ার। টক্ টু ইউ টুমরো।
ইউরোপের যে সব দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা আকাশচুম্বি পোল্যান্ড তাদের মধ্যে অন্যতম।আদনার ও টিপুকে বললাম নব দম্পতিরা এখানে আসে ,রেলিংয়ে তালা মেরে ক্যানেলকে পিছে রেখে চোখ বন্ধ করে মাথার উপর দিয়ে চাবি ছুড়ে মারে ক্যানেলের পানিতে। তারা বিশ্বাস করে এমনটি করলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক অটুট থাকবে। টিপু জিজ্ঞাসা করলো বাস্তবে কি তাই আঙ্কেল। আমি বাংলাদেশের নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মতো দাঁত কেলিয়ে রহস্যের অট্ট হাসিতে ফেটে পড়লাম। আমার হাসির রেশ না কাটতেই টিপু তালার পশে গিয়ে সেলফি নিতে থাকলো। এ প্রতিযোগিতায় আদনানও পিছিয়ে রইলো না। ওদের ভাব সাব দেখে মনে হলো এক দুটো নয় ডর্জন ডর্জন তালা থাকলেও ওরা সেটা সেটে দিতো রেসলিং এর গায়ে,চাবি ছুড়ে ফেলতো গভীর জ্বলে ।

সেদিন ছিল পোল্যান্ড সেনেগালের মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা। হাটতে হাটতে আমরা পৌছালাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অসাধারণ লীলা ভূমিতে। চারিদিকে সবুজ অরণ্যে বেষ্টিত। মাজখানে ফাঁকা একটি এলাকা। বড় পর্দায় সেখানে চলছে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা। সামনে শত শত ইজি চেয়ার। কেউ শুয়ে, কেউ বসে গা এলিয়ে মহা আনন্দে খেলা দেখছে। আমরাও ফাঁকা দেখে বসে পড়লাম । চারিদিকে বিয়ার ও ভোটকার গন্ধ। নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই চুমু খাচ্ছে রঙিন পানিতে। সেনেগাল ইতিমধ্যে গোল করেছে। চারিদিকে থমথমে ভাব। বিয়ার ও মদের বিক্রি বেড়ে গেলো। দর্শকদের মধ্যে নেই বাড়তি উন্মাদনা। এ দৃশ্য দেখে বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ভক্তদের কথা মনে পড়লো। মনে প্রশ্ন জাগলো জাতিগতভাবে আমরা কি প্রয়োজনাতিরিক্ত আবেগ প্রবন? আমার ধারণা সঠিক হলে ভয়ঙ্কর। কারণ আবেগ যেখানে প্রবল বিবেক সেখানে অচল।

আমি খেলার জগতে ডুব মেরেছি। আদনান ইতিমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করেছে হালাল খাবারের। আমরা ওখান থেকে রাতের খাবার সেরে হোটেলে ফিরলাম।

আমাদের হোটেল থেকে একটু দূরেই ওয়ারশ বাংলাদেশ দূতাবাস। চলতে ফিরতে চোখে পড়তো পত পত করে উড়ছে আমার অস্তিত্বের অহংকার লাল সবুজের পতাকা। আদনান ও টিপু আমাকে বার বার সেখানে যাবার জন্য ইনসিস্ট করেছে। আমার মন টানেনি। বরং ওদের শিষ্টাচারের কথা মনে হতেই ব্যাথায় বুকটা টন টন করেছে আমার।
পোল্যান্ডের বাকি দিনগুলি যথাক্রমে অন্যান্য আইনজীবী ,একাউন্টেন্ট ও স্থানীও বাংলাদেশিদের সাথে ভালোই কেটেছে। রাজধানী ওয়ারশ তে বাংলাদেশির সঠিক সংখ্যা কত কেউ বলতে পারেনি। বিশেষ কয়েকটি এলাকা ছাড়া বাংলাদেশী খুবএকটা চোখেও পড়েনি। উন্নত বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে বাংলাদেশী পাড়া থাকে। ওয়ারশ তে তারও সন্ধান মেলেনি । তবে হাঁ পোল্যান্ডে বাংলাদেশী যাই থাকুক না কেন সেখানে ভারতীয়দের উপস্তিতি প্রচুর।

পোল্যান্ড অর্থনৈতিকভাবে ইউরোপের ধনী দেশগুলোর তুলনায় কিছুই না। তবে সেখানকার দৃষ্টি নন্দিত আধুনিকতার ছোয়া মনে রাখার মতো।রাস্তার পশে রাখা আছে সাইকেল মেরামতের যাবতীয় সরঞ্জাম । চলতি পথে সাইকেল এ কোনো সমস্যা হলে তা মেরামতের ব্যবস্থা সরকারিভাবেই রাস্তায় রাস্তায় মৌজুদ করে রাখা আছে। ট্রেনস্টেশনে ট্রেনস্টেশনে আছে পয়সার বিনিময়ে টয়লেট করার ব্যাবস্তা।মজার বেপার হলো টয়লেট ব্যবহার করতে হলে পে করতে হবে কন্ট্রাক্টলেস ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে।ইউরোপের আর কোনো দেশে এটা দেখেছি বলে আমার মনে পড়ে না। এছাড়াও আধুনিকতার অনেক কিছু আছে সেখানে যা এই অল্প পরিসরে বর্ণনা করা অসম্ভম প্রায়।

আজ আমাদের লন্ডনে ফিরতে হবে। টিপুর ঘ্যান ঘ্যানানির যন্ত্রনায় একটু আগেই এয়ারপোর্ট এলাম। আসার পথে এয়ারপোর্টের একটা স্যুভেনির শপে কি একটা আইটেম চোখে পড়েছিল টিপুর। সে ওটা কিনবে বলে কমিটমেন্ট করেছিল দোকানিকে। এয়ারপোর্টে আগে ভাগে আসার ব্যাপারে তার উচ্ছাস ও কৌতুহলের এটাই কারণ। ট্রেনে চেপে এয়ারপোর্টে আসার পথে টিপুকে জিজ্ঞাসা করলাম আজ ওই আইটেমটা যদি আউট অফ স্টক হয় ? দৃঢ়তার সাথে সে বললো ,ফ্লাইট বাতিল করবো ,নতুন টিকেট কাটবো ,প্রয়জনে পোল্যান্ডে আরো ক’ দিন থাকবো। মাগার আমার ওটা চাই।

এয়ারপোর্টের ভি আই পি লাউঞ্জে বসে আছি। আমি আর আদনান।সামনে স্পার্কিং মিনারেল ওয়াটার ও গ্রীন টি। জিজ্ঞাসা করলাম আমাদের সুদর্শন কোথায় ? মিসকি হেসে আদনান বললো স্যুভেনির আঙ্কেল স্যুভেনির । একটু পরে আদনান একই পথ ধরলো। আমি একা ,হলাম বোকা , কি আর করার। হিসাব মিলাতে বসলাম আমাদের পোল্যান্ড ভ্রমণের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে।আদনান আর টিপু বীরের বেসে ফিরে এলো। টিপুর চোখে মুখে বিজয়ের বার্তা। ঘুষ হিসাবে আমার জন্যেও কিছু গিফট এনেছে আদনান।

পোল্যান্ডের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ,থাকার ও কাজের সুযোগ সুবিধা ,স্টুডেন্ট ভিসা ইত্যাদি নিয়ে সরজমিনে তদন্ত করতেই এদেশে আসা। বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কিছু প্রতারণাক ,দালাল ও আদম ব্যাবসায়ী তৎপর হয়ে উঠেছে। সত্য মিথ্যা বুঝিয়ে তারা নিরীহ মামুষকে প্রতারিত করছে।ইউ টিউব এ মনগড়া ইনফরমেশন দিয়েও অনেকে মজা নিচ্ছে। এ সব কিছুর উর্ধে সত্য তথ্য দিয়ে দেশের মানুষের পশে দাড়ানোই আমার পোল্যান্ড ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও লক্ষ।
আইনজীবী ,একাউন্টেন্ট ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেল।
১) ইউরোপে যাদের ভিসার মেয়াদ আছে ,তাদের জন্য পোল্যান্ডে টেম্পোরারি রেসিডেন্স পার্মিট ,ফুল টাইম কাজের অনুমতি ও কাজ খুঁজে পাওয়া কঠিন কিছু না।

২ ) ওয়ার্ক ভিসা নিয়েও বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে পোল্যান্ডে আসা সম্ভব।তবে শর্ত হচ্ছে প্রমান সাপেক্ষে মালিক পক্ষ থেকে প্রথমে কর্মী খুঁজতে হবে । এতে বার্থ হলে সরকারি সংশিলিস্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে কর্মী খুঁজবে। এবারও বার্থ হলে।সরকার মালিক পক্ষকে একটা সার্টিফিকেটে প্রদান করবে।যেখানে লেখা থাকবে ,উল্লেখিত কোম্পানি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্টানের জন্য সরকারি ভাবে ও নিজের উদ্যোগে কর্মী খুঁজে ব্যার্থ হওয়ায় তারা দারুণভাবে কর্মী সংকট ঝুঁকিতে আছে। যা ব্যবসা প্রতিষ্টানের জন্য বিপদ সংকেত। এমত অবস্থায় কোম্পানিটিকে উপরে উল্লেখিত ক্যাটাগরিতে …. জন কর্মী বহিঃবিশ্ব থেকে আমদানি করার জন্য অনুমতি প্রদান হলো।

কর্মীর পাসপোর্ট কপি ,মালিকের ব্যাবসায়িক কাগজ পত্র ও উপরে উল্লেখিত সার্টিফিকেট সহ আইনজীবী, একাউন্টেন্ট বা মালিক পক্ষ নিজে সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিলে সর্বোচ ৯০ দিনের মধ্যে এন ও সি ইসু হবে। পরবর্তীতে কর্মী প্রয়োজনীয় কাগজ ও এন ও সি পোল্যান্ড দূতাবাসে জমা দিলে পাওয়া যেতে পারে দেশটির ওয়ার্ক পারমিট ভিসা।

৩) স্টুডেন্ট ভিসায় পোল্যান্ড এলে স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে টেম্পোরারি রেসিডেন্ট পার্মিট ও কাজের অনুমতি পাওয়া যেতে পারে।
৪) মালিক পক্ষ কর্মীকে ফুল টাইম কাজের চুক্তি করলে কর্মী তার ফ্যামিলি নিজ দেশ থেকে পোল্যান্ডে আনার
অনুমতি পাবে।
৫) পোল্যান্ডে সাধারণত প্রথমে টেম্পোরারি রেসিডেন্ট পার্মিট প্রদান করা হয়। শর্ত সাপেক্ষে ৫ বৎসর পর আবেদন করা যায় পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট পারমিটের। এর ২ বৎসর পর আবেদন করা যায় নাগরিত্বের। পোল্যান্ডের নাগরিক মানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৮ টি দেশের নাগরিক। সুতরাং ইউরোপিয়ান উনিয়নের যে কোনো দেশে স্থায়ী ভাবে থাকা ,কাজ করা ,পড়াশুনা করা ও ওই দেশের সব নাগরিক সুযোগ সুবিধা পেতে আর কোনো বাধা থাকে না।

লন্ডন ০৯.০৮.২০১৮
bablulondon@gmail.com

www.sheikhmohiturrahmanbablu.com

0044 (0) 7950902124

লেখক : সম্পাদক newslife24.com

 

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x