Deprecated: __autoload() is deprecated, use spl_autoload_register() instead in /customers/8/3/c/europerkatha.com/httpd.www/wp-includes/compat.php on line 502 মন্ত্রী শাহজাহান খানের নেতৃত্বে শুধু ঢাকাতেই দৈনিক কোটি টাকার চাঁদা আদায় – Europerkatha.com

মন্ত্রী শাহজাহান খানের নেতৃত্বে শুধু ঢাকাতেই দৈনিক কোটি টাকার চাঁদা আদায়

Posted on by

অনুপম দেবাশীষ রায় : আজ রাজধানীতে দুইটি বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় কয়েকজন ফুটফুটে স্কুল কলেজ ছাত্রর মৃত্যুতে অনেক পুরোনো একটি দগদগে ঘা আমাদের সামনে এসে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দেশের মন্ত্রীপরিষদে বসে রয়েছেন একজন সিন্ডিকেট নেতা, একজন কার্তেল নিয়ন্ত্রক। নারকোস সিরিজের পাবলো এস্কোবার যেই স্বপ্নে কলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্সি চেয়েছিলো, তাকেই বাস্তবায়িত করেছেন নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান। নিজের মন্ত্রীত্বকে ব্যবহার করে তিনি একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতার আখড়া বানিয়ে তুলেছেন আমাদের গণপরিবহন খাতকে। তার আস্কারায় আজকে নোংরা প্রতিযোগিতার বদ্ধবাজার হয়ে পড়েছে আমাদের গণপরিবহন আর ভাঙ্গাচোরা ফিটনেসহীন বাসে বড়ো আকারের গণপরিবহনের যোগান আটকে তিনি শহরে বাড়িয়ে তুলেছেন ছোটমাপের পরিবহনের সংখ্যা–যাতে যানজটের শিকার হচ্ছে নগরীর সকলে। একদিকে যানজট, অন্যদিকে মৃত্যু, আরেকদিকে ক্ষমতার অপব্যবহারের শতদোষে দুষ্ট শাহজাহান খানকে আর এই মৃত্যুর সার্কাস চালাবার সুযোগ দেয়া যায়না।

ঢাকা শহরের পরিবহন খাতে নতুন উদ্যোক্তা আসবার ক্ষেত্রে বড়ো একটি বাধা হলো এই মালিক সমিতির সিন্ডিকেট । পরিবহন খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী একাধিক ভুক্তভোগী জানান, বিআরটিএ এবং পরিবহন কমিটির অনুমোদনের আগেই মালিক সমিতির সদস্য হতে হয়। আর মালিক সমিতিগুলো নিয়ন্ত্রণ করে যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের নেতা বা নেতাদের আত্মীয়স্বজন। এই চাঁদা আদায়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোরও সমর্থন থাকে। আর ঢাকাসহ সারা দেশের পরিবহনশ্রমিকদের সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। আর পুরো ঢাকার বাসমালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার এনায়েত উল্যাহ হচ্ছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ শাখার সহসভাপতি। পরিবহন খাত থেকে তোলা চাঁদার মধ্য থেকে মালিক সমিতি প্রতিদিন প্রতিটি বাস থেকে ৪০ টাকা এবং শ্রমিক সংগঠনগুলো ৩০ টাকা পেয়ে থাকে। এই বিশাল সিন্ডিকেট বাণিজ্যে সরকারের প্রভাবশালীদের সরাসরি কতৃত্ব থাকার কারনে বিআরটিসিসহ কোন সরকারি সংস্থাই তাদের বাগে আনতে পারেনা।

অথচ মালিকদের এই সিন্ডিকেটের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সাধারণ বাসমালিক নিজেরাই।  শহরে চলাচলরত বাসের সংখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রন আরোপ করাতে সাধারণ ভোক্তার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে ছোটমাপের গণপরিবহন। পরিবহন বিশেষজ্ঞ সামছুল হক বলেন, ছোট গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির অর্থ হলো যানজটকে ডেকে আনা। আর সড়ক নিরাপত্তা তো বিপন্ন হবেই। আর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহর জনকণ্ঠকে বলেন, যানজটের কারণে বাস মালিকরাই এখন আর গাড়ি চালাতে পারছেন না। কাজেই নিজেদের লাভ নিয়ন্ত্রণ করতে যে খেলাটি খেলতে চেয়েছিলেন বাসমালিকেরা, তার ফাঁদে পড়েছেন তারা নিজেরাই।

তবে চাইলেও মালিকেরা সিন্ডিকেটের খপ্পর থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্রভাবে বাস চালাতে পারেন না। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা ও এর আশপাশে এখন বাস-মিনিবাস চালাতে হলে দিনে ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। প্রতিদিন চাঁদা ওঠে প্রায় ১ কোটি টাকা। এ খাতে যুক্ত থাকা মন্ত্রী, সাংসদ, সরকারদলীয় নেতারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই চাঁদা নিয়ন্ত্রণ করেন। ঢাকায় বাস কোম্পানি আছে ২৪৬টি। আর বাস চলে প্রায় ৮ হাজার। এর মধ্যে সাধারণ মালিকেরা বিপুল পরিমাণ চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। কাজেই এই খাতে নতুন উদ্যোক্তা আসতে একটা ব্যারিয়ার টু এন্ট্রির সম্মুখীন হয় এবং তার কারণে ভাড়াও কমেনা। সমিতির সদস্য হতে মোটা অঙ্কের চাঁদা লাগে কি না জানতে চাইলে মশিউর রহমান বলেন, পিরোজপুরে চার-পাঁচ বছর ধরে সদস্য নেওয়া বন্ধ আছে। কারণ, নতুন বাস নামলে পুরোনো মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর এই নতুন বাস না নামানোর কারণে ভুক্তভোগী হচ্ছেন যাত্রীরা। ভাড়া নিয়ে কোনো যাত্রী উচ্চবাচ্য করলে তাঁদের শায়েস্তা করার জন্যও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিজেদের লোক রাখেন পরিবহনমালিকেরা। ফলে সরকার-নির্ধারিত হারের দু-তিন গুণ ভাড়া আদায় হচ্ছে।

পরিবহন খাতের এই অচলায়তনের সমাধান করতে গেলে সরকারের সাথে পরিবহন মালিক সংস্থাগুলোর যোগসাজশ দূর করতে হবে। বর্তমানে সরকারের একজন মন্ত্রীর পরিবারের মালিকানাধীন কোম্পানির বাস তিনটি রুট বা পথে চলাচল করছে। সরকারদলীয় দুজন বর্তমান ও একজন সাবেক সাংসদের নিজ নামেই পরিবহন কোম্পানি আছে। এর বাইরে সাংসদের পরিবারের সদস্য, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, ঢাকা সিটি করপোরেশনের সরকার-সমর্থক কাউন্সিলরসহ ২০ থেকে ২৫ জন নিজ নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে কোম্পানি করে বাস পরিচালনা করছেন। আবার পুলিশের সাবেক আইজির ভাই, ছাত্রলীগের সাবেক একজন সাধারণ সম্পাদকের কোম্পানির অধীনেও বাস-মিনিবাস চলছে ঢাকায়। এইসব ক্ষমতাবানেরা মিলে যে অশুভ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, সেগুলো ভাংতে হবে, সাধারণ বাসমালিক ও উদ্যোক্তাদের মুক্তি দিতে হবে। ব্যারিয়ার টু এন্ট্রি দূর করতে হবে। নতুন মালিকদের নতুন বাস নামানোর সুযোগ দিতে হবে।বাসের ওপরে শুল্ক কমাতে হবে। তাহলে ভাড়া কমে আসবে এবং ছোট যানবাহনের চাহিদা কমে আসবে। বাস বাড়লেও যানজট কমবে কারণ রিকশা আর বেবিট্যাক্সি কমবে। যানজট কমে আসলে আর সিন্ডিকেটবিহীন সুস্থ প্রতিযোগিতা হলে দ্রুত ট্রিপ শেষ করবার পাগলামিও নেমে আসবে কমের দিকে কেননা তাড়াহুড়া করে ফিরলেও নতুন যাত্রী পাওয়া হবে অসম্ভব কেননা তাদের জন্যে শুরুর পয়েন্টে আর শেষের পয়েন্টে যথেষ্ট বাস ইতোমধ্যেই থাকবে। চাহিদা এবং যোগানের নিয়মে এই ক্ষেত্রকে চলতে দিলে ছোট যানবাহনের ওপর চাপ কমবে এবং রাস্তাও হবে বর্তমানের চাইতে সুগম।

কিন্তু এই কাজ শুরু করতে হবে সবার প্রথমে এই সংকটের নাটের গুরুকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদেয় করবার মাধ্যমে। কাজেই নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের সরকার থেকে পদত্যাগ এই মুহুর্তে সময়ের দাবি। নয়তো বারবার নোংরা প্রতিযোগিতার খপ্পরে আমাদের সন্তানদের জীবন হারানোর খবর আসতেই থাকবে।

তথ্যসূত্র

Leave a Reply

More News from এক্সক্লুসিভ

More News

Developed by: TechLoge

x