Deprecated: __autoload() is deprecated, use spl_autoload_register() instead in /customers/8/3/c/europerkatha.com/httpd.www/wp-includes/compat.php on line 502 জাত নিমের পাতা জিরো টলারেন্স কেন জিরো আওয়ারে নয়? – Europerkatha.com

জাত নিমের পাতা জিরো টলারেন্স কেন জিরো আওয়ারে নয়?

Posted on by

নিউজ লাইফ ডেস্কঃ নামটা কত সুন্দর দেখুন- চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারী। ভারতীয় কংগ্রেসের এই নেতা ’৪৭-এ দেশবিভাগের পর স্বাধীন ভারত ১৯৫০ সালে প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত দেশটির শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন।

তো তিনি ১৯৬৯ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গঠন করেছিলেন ‘স্বতন্ত্র পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল। এই দল থেকেই নির্বাচিত রাজ্যসভার সদস্য পিলু মোদির একটি বিদ্রূপাত্মক কথাই বলতে হচ্ছে প্রথমে।

ভারত ১৯৭৫ সাল থেকেই একের পর এক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে থাকে। ’৮৪ সালে, অর্থাৎ ইন্দিরা গান্ধীর শুধু প্রধানমন্ত্রিত্বের নয়, জীবনেরও শেষ বছরটায় রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে পিলু মোদি তাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি তো আকাশ জয় করছেন, কিন্তু জমিনের টেলিফোনগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না কেন?

বাংলাদেশও হুইসেল বাজিয়ে যাত্রা শুরু করেছে মহাকাশের পানে। দ্রুত গতিতে ছুটে গেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ঊর্ধ্বপথে। অতঃপর আমরাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করতে পারি- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের তীব্র গতির বিপরীতে এদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনীতির লাইফলাইন যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, সেখানে দিনের পর দিন কেন আটকে থাকল মানুষ আর পণ্য?

দীর্ঘ প্রায় ১০০ কিলোমিটারজুড়ে এই যে ‘জিরো কিলোমিটার পার আওয়ার’ গতির বাস-ট্রাক উপর থেকে পর্যবেক্ষণ করল কিছুদিন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, মুখটিপে হাসেনি তো? রাজধানীর যানজটও কি এড়াচ্ছে তার চোখ? সবটা মিলিয়ে কী ভাবছে সে? আসলে আজ আমরা সুশাসন নিয়ে কথা বলব। রোড-ম্যানেজমেন্টও যেহেতু সুশাসনেরই অংশবিশেষ, তাই দীর্ঘ ৩৪ বছর পর টানতে হয়েছে পিলু মোদিকে। আমরা তাহলে শুরু করি।

গত ৪৭ বছর ধরে এদেশের রাজনীতির বঙ্কিম ধারাটি যারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসছেন, তারা দুটি বিষয়ে এ লেখকের সঙ্গে একমত হবেন নিশ্চয়ই। এক. গণতন্ত্র একটি সর্বাঙ্গীন জীবনব্যবস্থা হলেও এটাকে নির্বাচনের সমার্থক করে তুলেছি আমরা।

দুই. একটি নির্বাচনে ভোট দেয়ার পর নবগঠিত সরকারের মধুচন্দ্রিমার সময়টুকুও পার হতে না হতে নির্দলীয় ভোটারদের ভাবান্তর হচ্ছে যে, ভোট দিয়ে ভুল করেছি, অথবা ভোটটা অপাত্রে গেছে। ‘অমূল্য’ শব্দের অর্থ আমরা বুঝি যার মূল্যের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই; যেমন কোরআন শরীফ অমূল্য গ্রন্থ, এর কোনো মূল্য হয় না, হাদিয়াস্বরূপ একটা দাম দিতে হয়। তবে ব্যাকরণগতভাবে অমূল্য মানে যার কোনো মূল্য নেই অর্থাৎ মূল্যহীন, মামুলি।

আমরা যখন বলি ভোট আমাদের অমূল্য সম্পদ, তখন পরের অর্থটাই প্রযোজ্য হচ্ছে- ব্যালট পেপারটি সত্যি সত্যি মূল্যহীন এক মামুলি কাগজে পরিণত হচ্ছে।

ভোটার কাকে কেন ভোট দেয়, এ ব্যাপারে বাংলাদেশে কোনো স্টাডি হয়নি। যেমন, দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের একটি আদর্শবাদী দল সিপিবি খুলনা নির্বাচনে ভোট পেয়েছে পাঁচশ’র কিছু বেশি আর চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন পেয়েছে ১৪ হাজার! এই দলটি রংপুর নির্বাচনে পেয়েছিল ২৪ হাজার ও ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে ২০ হাজার ভোট।

সিপিবির চেয়ে ইসলামী আন্দোলন কেন এত বেশি জনপ্রিয়, তার কোনো যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। আমেরিকায় ভোটের ওপর স্টাডি হয় এবং সেখানে দেখা যায় দুই দলের যেটি বেশি জব ক্রিয়েশন অর্থাৎ কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে অথবা বিশ্বাসযোগ্যভাবে জব ক্রিয়েট করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, ভোটাররা সাধারণভাবে তাকেই ভোট দেয়।

অর্থাৎ বিষয়টা অর্থনৈতিক। এটাই স্বাভাবিক, কারণ গণতন্ত্র নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো দুশ্চিন্তা কাজ করে না, ওটা তো সামগ্রিক জীবনের সঙ্গেই মিশে থাকে। আমাদের এখানে গণতন্ত্রের কথাটাও আলাদাভাবে ভাবতে হয়।

ট্রাজেডি হল, এই গণতন্ত্রের কথা ভাবতে ভাবতে সময় সংক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে, জীবনকে অর্থবহ কিংবা আরামদায়ক করার এজেন্ডাগুলো নিয়ে ভাবার তেমন সুযোগ ঘটে না। বস্তুত গত ৪৭ বছরের ইতিহাস এককথায় গণতন্ত্র ধ্বংস ও তা পুনরুদ্ধার করতে যাওয়ার বারংবার সংগ্রামের ইতিহাস।

আমরা এটা শুধু বুঝে ফেলেছি নয়, একদম হৃদয়ঙ্গমও করেছি যে, এদেশে কেউ কাউকে নিরঙ্কুশ গণতন্ত্র দেবে না (কী লিখলাম! গণতন্ত্র তো একটি বিমূর্ত ধারণা, পদার্থ তো নয়। এটা আবার দেয় ক্যামনে?)। আমরা যারা শেখ হাসিনা ও মিসেস জিয়ার কাছ থেকে পূর্ণ গণতন্ত্র আশা করি, তারা খেয়াল করি না যে, বাবা সন্তানকে গণতন্ত্র দেয়নি, দেবেও না; স্বামী স্ত্রীকে দেয় না, কোনো কোনো স্ত্রীও স্বামীকে দেয় না; প্রেমিক দেবে না প্রেমিকাকে; গৃহকর্ত্রী দেবে না বুয়াকে; অমন যে গলায় গলায় পিরিত, সেই দুই বন্ধুও একে অন্যকে গণতন্ত্র দিতে চায় না।

সামন্ত-অর্থনীতি গেছে, সামন্ত-সংস্কৃতি থেকে গেছে, বাঙালির তা কখনও যাবে না বলেই মনে হয়। কর্তৃত্ববাদ এদেশের মানুষের মজ্জায় মজ্জায় খেলা করে। অতঃপর ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতাহীনদের গণতন্ত্র দেবে- এমন নিরর্থক ভাবনা বাদ দিয়ে বাজারের ভালো মাছটা অন্য কেউ কেনার আগেই ব্যাগ হাতে ছুটে যাওয়ার চিন্তাটাই বেশি লাভজনক।

পাঠক দেখুন তো মিথ্যা বলছি কিনা। বিক্রয়-প্রতিনিধি বা সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভকে আমরা যেমন ভদ্র ভাষায় বলি ফিল্ড অফিসার, পতিতার সম্ভ্রম বাঁচানোর জন্য তাকে যেমন ডাকি সেক্স ওয়ার্কার অথবা অনুন্নতকে সাহস জোগানোর জন্য তাকে বলি উন্নয়নশীল; ঠিক তেমন বানরের পিঠা ভাগ করার দর্শনটির নাম রেখেছি আমরা গণতন্ত্র; আবার এদেশের বিশালাকার সম্পদ অর্থাৎ লার্জ সাইজের পিঠাটির কে কতটা ভাগ পাবে অথবা আস্ত পিঠাটাই কারও ভাগে ফেলতে হবে কিনা, তা নির্ধারণের জন্য যে সিস্টেম, তার নামকরণ করেছি নির্বাচন! এমন পরিস্থিতিতে যারা তাদের ভাষায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম করছেন, তাদের একটি মৌলিক প্রশ্নের মীমাংসা করেই আন্দোলন করতে হবে।

আর সেটি হল- আমরা কোন্ গণতন্ত্র চাই? অধিক, না উৎকৃষ্ট? যদি উৎকৃষ্ট হয়, তাহলে সেই গণতন্ত্রের স্বরূপ কী হবে? জানি, আন্দোলনকারীরা এ মুহূর্তে অধিক গণতন্ত্রের কথাই বলবেন, উৎকৃষ্ট গণতন্ত্রের কথা বলবেন ক্ষমতায় তাদের টার্ন শুরু হওয়ার পর। আমরা, অর্থাৎ বুদ্ধিমানরা কিন্তু উৎকৃষ্ট গণতন্ত্রই চাই।

বোকারাই সরকারের ধরন নিয়ে মাথা ঘামায়, আর বুদ্ধিমানরা ভাবে যে সরকার ভালো দেশ চালায়, সেই সরকারই উত্তম সরকার। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা তাইওয়ানের জনগণ বুদ্ধিমান বটে।

আসলে অপথের অন্ত নেই, সুপথ একটাই; ঠিক তেমন গণতন্ত্রের প্রকারভেদ হয়, সুশাসন একটাই। বর্তমান সময়ে একটা বিতর্ক ‘ডিম আগে, না মুরগি আগে’র মতো এক চটুল কানাঘুষায় পরিণত হয়েছে। সেটি হল- গণতন্ত্র বড়, না সুশাসন? এই বিতর্কের মীমাংসা করেছিলাম আমি অনেক আগেই।

‘ডিমের সাদা অংশটা হল গণতন্ত্র আর সুশাসন হল কুসুম’ শিরোনামের লেখাটিতে বলেছিলাম- শাসনব্যবস্থাটাকে যদি আস্ত ডিম ধরি, তাহলে সাদা অংশটা যদি আমাদের খেতে দেয়া না-ও হয়, কুসুমটা তো দিতেই হবে। পুষ্টিহীনতার রোগী কুসুমটাই আগে চায়, সাদা অংশটাও দিলে জিহ্বার তৃপ্তিটা বেশি হয় বটে। আরও সোজা করে বললে, দেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিরোধীদলীয় নেতা হতে চায় না, এমপি হওয়ার আকাক্সক্ষাও থাকে নগণ্যসংখ্যক মানুষের।

সত্য বটে, দেশে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র না থাকলে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত থাকবে ন্যায়বিচার থেকে; কিন্তু উত্তরটা এখানেই যে, সীমিত গণতন্ত্রের সুশাসন বিরোধীদলীয় রাজনীতিকের ক্ষমতাকাক্সক্ষাকে অবজ্ঞা করলেও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করে। অর্থাৎ বলা যায়, সুশাসন অধিক গণতন্ত্র না হলেও তাকে আমরা একপ্রকারের উৎকৃষ্ট গণতন্ত্র বলতে পারি। বিরোধীদলীয় রাজনীতিকদের যে এ ধরনের গণতন্ত্র পছন্দ হবে না, তা আর বলতে!

ইতিমধ্যে একটা ধন্দ তৈরি হয়েছে। পাঠক হয়তো ভাবছেন সীমিত গণতন্ত্রকেই আমি চালাকি করে উৎকৃষ্ট গণতন্ত্র বলে চালাতে চাইছি। সেক্ষেত্রে আরেকটি প্রশ্ন তৈরি হবে- সীমিত গণতন্ত্র আবার কী? গণতন্ত্র তো অখণ্ড। আসলে উৎকৃষ্ট বলি আর সীমিত গণতন্ত্র বলি, সেটা এমন যে, সেখানে মানুষ কথা বলতে পারবে না তা নয়, তবে সুশাসনের পথে যিনি বাধা হয়ে দাঁড়াবেন, তাকে প্রতিহত করা হবে।

হ্যাঁ, সুশাসন মানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া। সুশাসন মানে দুর্নীতিহীন সমাজ, সংখ্যালঘুর সুরক্ষাও। বলা নিষ্প্রয়োজন, এ সবই গণতন্ত্রেরই কম্পোনেন্ট। প্রাকৃতিক সম্পদহীন বন্দর-রাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের যে চোখ ধাঁধানো সমৃদ্ধি, তার মূলেই রয়েছে সুশাসনের বাস্তববাদিতা। আমরা বাংলাদেশে যেটাকে গণতন্ত্র বলছি, সেটা উচ্ছৃঙ্খলতা বৈ অন্য কিছু নয়।

এবার আসল কথা। ’১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটিকে একতরফাভাবে সম্পন্ন করে আমাদেরকে যখন ডিমের সাদা অংশবঞ্চিত করা হয়েছিল, তখন আমরা ধরে নিয়েছিলাম- কোনোকালেই তো কুসুম খেতে পারিনি, এবার যদি পাতে ওঠে।

কারণ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গণতন্ত্র যখন মার খায়, অগণতান্ত্রিক সরকার তখন সুশাসন দিয়ে ঘাটতি পূরণে সচেষ্ট থাকে। কিন্তু না, সরকার টার্ম শেষ করল প্রায়; অথচ আমরা কেবল একটিমাত্র ক্ষেত্রে সরকারকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে দেখেছি আর সেটা হল বিএনপি-জামায়াতের পেট্রলবোমার আগুন নেভানো।

দক্ষ ফায়ার সার্ভিস বটে। কিন্তু জাবেদা খাতার বাকি হিসাবগুলো কেমন? মাদকে ছেয়ে গেল দেশ, এমনকি একজন এমপির ‘মাদকনামা’ প্রকাশিত হচ্ছিল দিনের পর দিন। ব্যাপারটা এমন নয় যে, ঘুম থেকে জেগে দেখলাম আগাছায় ভরে গেছে দেশ।

চোখের সামনেই গজিয়েছে সেগুলো দিনে দিনে। অতঃপর যুবসমাজের যখন একটা কিডনি বিকল হয়ে আরেকটিতে সিস্ট, তখন হুঁশ হল। কিন্তু ততোদিনে উদ্ধার পাওয়ার আইনি পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।

হাতে উঠে এসেছে বন্দুক! আমরা সুশাসন চাই বটে, তবে সেটা কি সংবিধানের মৌলিকত্বকে বিসর্জন দিয়ে? কেন বিসর্জন দিতে হচ্ছে সংবিধান? জিরো টলারেন্সটা অপরাধটির জন্মলগ্নেই অর্থাৎ জিরো আওয়ারে দেখালে কী হতো? দেখতে পাচ্ছি, এদেশে রোগের শুশ্রূষা হয়, রোগীর হয় না, আর তাই রোগী ভালো হয় না, রোগ জটিল আকার ধারণ করে।

ঠিক আছে এই বেআইনি পদ্ধতিই সই। তো দুই বাসের চাপায় রাজীবের মৃত্যুর পর এত হৈ চৈ সত্ত্বেও পরিবহন শ্রমিকরা যে মাত্র একজন মন্ত্রীকে সঙ্গে পেয়ে খোদ রাষ্ট্রটিকেই চ্যালেঞ্জ করে একই কাজ করে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স কোথায় গেল? পরিবহন শ্রমিকের সংখ্যা লাখ লাখ, তাই এই ভোট-রাজনীতি? আমরা তো আগেই বলেছি, গণতন্ত্রের দরকার নেই, শান্তি দিন শান্তি!

মনে হচ্ছে, সরকার লটারি করে মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট করেছে, কাগজ তুলে দেখেছে লেখা রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী! তা না হলে দুর্নীতিবাজ কিংবা নির্দলীয় মারদাঙ্গা নেতাকর্মীরা কোন্ পুণ্যে থাকছে তালিকার বাইরে? গণতন্ত্রকে বলা হয় সর্বোৎকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা, তবে হেনরি মেইনের ভাষায় এটাই সবচেয়ে দুরূহ শাসনপদ্ধতি।

এ কী কম কঠিন কথা- মানুষের স্বাধীনতা থাকবে, মতপ্রকাশের অধিকার থাকবে, আবার এই অবারিত সুযোগে অপশক্তি অথবা অপরাধী যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেটারও নিষ্পত্তি করতে হবে। বিজ্ঞাপনে দেখছি- একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি। সরকার তো প্রথমটাই দিতে পারছে না!

শোনা যাচ্ছে, নির্বাচনের আগে জনমত আদায় করতে মাদক ব্যবসার মতো আরও অনেক ক্ষেত্রে চমক আসছে সরকারের পক্ষ থেকে। হ্যাঁ, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের একটা আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছে। এই আকাক্সক্ষাকে কোনো না কোনোভাবে অ্যাড্রেস করতে হবে। প্রয়োজনে সেটা দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে হলেও! আমরা সবাই চমকই চাই, তবে তা আইন লঙ্ঘন করে নয়।

ঈশ্বর এবং সময়- এ দুয়েরই কেবল শেষ বলে কিছু নেই, বাকি সবই ক্ষণস্থায়ী। এ ক্ষণকাল কখনও স্বল্প, কখনও বা দীর্ঘ, দীর্ঘতর। মহাকালের নিরিখে ক্ষমতার স্থায়িত্বও খুবই ক্ষণকালের। এই মহাসত্যকে মাথায় রেখেই যাবতীয় কার্য সম্পাদন করতে হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। এ মুহূর্তের বাংলাদেশে তার মতো ভাগ্যবান আর কেউ নন- সরকার, দল, রাষ্ট্র সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ও যোগ্যতা যথেষ্ট আছে তার। শুধু ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী জায়গা করে নেয়ার আকাক্সক্ষাটা থাকতে হবে।

শেষ করব ভারত-বিশেষজ্ঞ বেলজিয়ান লেখক দিয়েগো মাইওরানোর ‘Autumn of the Matriarch’ গ্রন্থটির কথা দিয়ে। বইটিতে তিনি দেখিয়েছেন ১৯৭১ সালের আগের ইন্দিরা গান্ধী কীভাবে বদলে গেলেন ’৭১-এর যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়ে। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ভেঙে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিলাম, ইন্দিরা গান্ধী তাতে সহায়তা করেছিলেন।

বিজয় অর্জিত হওয়ার পর তিনি সেই বিজয়কে তারও সাফল্য বিবেচনা করে এমন আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলেন যে, এরপর আর কোনোকিছুকেই পরোয়া করেননি। এমনকি নেহরুর মেয়ে হয়েও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন দেশে।

গত সংসদ নির্বাচনের পূর্বাপর সময়টিতে বিএনপি-জামায়াতের মানুষ পোড়ানোর রাজনীতিসহ নানা ধরনের প্রতিকূলতা সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করতে পেরে আমাদের প্রধানমন্ত্রীও এখন এক আত্মপ্রত্যয়ী নারী। তার কাছে মনে হতেই পারে পাহাড় ভাঙাও কোনো কঠিন কাজ নয়, বিনামেঘে বজ পাতও ঘটাতে পারেন তিনি। এই আত্মবিশ্বাস যেন তাকে বেপথু না করে- কায়মনোবাক্যে এটাই প্রার্থনা।

পুনশ্চ : রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গত বৃহস্পতিবারের লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পর বুঝতে পারছি তিনি কতটা জুড়ে আছেন পুরনো প্রজন্মের হৃদয়ে। ফিডব্যাকগুলো থেকে এটাও জেনেছি, বাঙালি মধ্যবিত্ত পুরুষেরা একসময় শুধু বাস্তব সুচিত্রা সেনের নয়, ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের কাল্পনিক লাবণ্যেরও প্রেমে পড়েছিলেন। চুপিসারে বলি, আমিও।

নতুন প্রজন্মের কেউ অবশ্য লাবণ্যের খোঁজই জানে না, জানলে না প্রেমে পড়ত! এখনকার তরুণ-যুবকেরা তাই, সাধু ভাষাতেই বলি- দুমদাম প্রেমে পড়িতেছে, ইতিমধ্যেই কর্পোরেট বনিয়া গিয়াছে অথবা কর্পোরেট বালিকা হইবার আকাক্সক্ষায় যাহারা প্রস্তুতি লইতেছে, তাহাদেরই। এইসব বালিকার বহিরাঙ্গ লাবণ্যময় বটে, অন্তর্লোক কেহ বুঝিতে পারে না!

মাহবুব কামাল : সাংবাদিক

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x